|
| |
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

মিছিল নিয়ে মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসক, তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালালেন হকাররা

টেস্ট বিশেষ প্রতিবেদক

টেস্ট বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১০ এএম
২৪৯ পঠিত
মিছিল নিয়ে মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসক, তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালালেন হকাররা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মিরপুর-১ এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ডিএনসিসি। প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে অবৈধ দোকানপাট ও ছাউনি ভাঙা হয়।

দলীয় নেতা-কর্মীসহ মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ফুটপাতের উচ্ছেদ অভিযানে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। মিছিল দেখে দ্রুত নিজেদের মালপত্র আর তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালালেন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও হকাররা।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটির উচ্ছেদ অভিযানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। আজ মিরপুর ১ এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ সকাল ১০টায় অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছিল ডিএনসিসি। তবে অভিযান শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিছিল নিয়ে অভিযানে পৌঁছানোর আগেই মিরপুর-১ থেকে শাহ আলী মাজার হয়ে গাবতলীমুখী প্রধান সড়কের অনেক হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মালপত্র সরিয়ে নেন।

তবে গাবতলীমুখী সড়কের কাঁচাবাজার অংশে তখনো শতাধিক দোকানে সবজি ও অন্যান্য কাঁচামাল বিক্রি চলছিল। প্রশাসককে সদলবল মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখে তাঁরাও দোকান সরানোর তোড়জোড় শুরু করেন। কেউ রিকশা বা ভ্যানে দোকানের মালপত্র তুলে নেন, কেউ সবজি ও তরিতরকারির ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ফুটপাত ছাড়েন। আবার কেউ বাঁশ-কাঠের কাঠামো ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী দোকান খুলে ফেলেন।

এরপর প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান সড়কের ওই অংশে পৌঁছালে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। তাঁর পেছনে ছিলেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা এবং উচ্ছেদকাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি।

অভিযানে শাহ আলী কলেজ মার্কেট, শাহ আলী ডিএনসিসি কাঁচাবাজার, শাহ স্মৃতি মার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট ও ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়। ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন পণ্য জব্দ করে ডাম্প ট্রাকে তোলেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।

‘ফুটপাত নগরবাসীকে বুঝিয়ে দেওয়া দায়িত্ব’

অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার মতো মিরপুর-১ নম্বর এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত করে নগরবাসীর হাঁটাচলার উপযোগী করা হবে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার দোকান বসানোর চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসক বলেন, মিরপুর-১ এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা। শাহ আলী, দারুস সালাম, মিরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না।

মিরপুর–১ এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতে থাকা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

তাঁর ভাষ্য, হকাররা শুধু গত এক-দুই বছর ধরে নয়, আগের ফ্যাসিবাদী আমল থেকেই সেখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন। শফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, এলাকার বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতা ও সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, নগরবাসীর হাঁটাচলার রাস্তা তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।

বিকেলেও অভিযানের ঘোষণা

মিরপুর-১ এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আরেক দফা অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। উচ্ছেদের পর আবারও যাতে একই জায়গায় অবৈধ দোকানপাট গড়ে না ওঠে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নগরবাসী।

সূত্র: প্রথম আলো