|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এবার তালাক নোটিশ ও কথিত কাবিননামা প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
২৪৬ পঠিত
এবার তালাক নোটিশ ও কথিত কাবিননামা প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে ঘিরে স্ত্রী দাবি করা এক নারীকে নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এবার তালাকের নোটিশ ও কথিত কাবিননামা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন রনি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া ওই স্...
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে ঘিরে স্ত্রী দাবি করা এক নারীকে নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এবার তালাকের নোটিশ ও কথিত কাবিননামা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন রনি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে গোলাম মাওলা রনি দাবি করেন, কথিত স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই নারী তার অফিসে এবং পরে ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন এবং পরে শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। স্ট্যাটাসের শুরুতে রনি লেখেন, ‘সময়টা ইউনুস জমানার। তখন ইল্লুদের প্রভাব তুঙ্গে! ইল্লুর প্ররোচনায় স্ত্রী দাবি করা মহিলা হঠাৎ একদিন আমার অফিস এলেন। আমি ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ ডাকলাম।’ অফিসে ওই নারীর আসার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি লেখেন, ‘পুলিশ এসে মহিলাকে বললো- আপনার কাছে কি আছে বিয়ের প্রমাণ। সে বললো কাগজ আছে। কিন্তু দেখালো না। কারন ওটা নাকি আমার কাছে নেই। আমি যদি পাই তবে তাকে আইন মোতাবেক তালাক দিয়ে দিবো। পুলিশ তাকে অফিস থেকে নিয়ে গেলো। মহিলা নিচে নেমে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চম্পট দিলেন।’ এরপর ধানমন্ডিতে নিজের বাসায় ওই নারীর যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে রনি বলেন, ‘এরপর তিনি চক্রান্তের দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়নের জন্য ধানমন্ডিতে আমার বাসায় উপস্থিত হলেন। আমি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে মহিলার আত্মীয় পরিচয়ে দুইজন লোককে আনা হয় এবং থানার কর্তাব্যাক্তিরা মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে কথিত কাবিনের একটি কপি সংগ্রহ করতে সামর্থ হন।’ কথিত কাবিননামা পাওয়ার পর আইনজীবীদের পরামর্শের বিষয়টিও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি লেখেন, ‘আইনবীদদের পরামর্শ ছিলো- কাবিনটির যথাযথতা এবং কবিনের আড়ালের ঘটনা কোর্ট কাঁচারিতে গিয়ে প্রমান করতে গেলে কয়েক বছর লাগবে এবং তারা চাচ্ছে আপনাকে কোর্টে নিয়ে জিম্মি করার জন্য। তারচেয়ে তাকে কাবিন অনুযায়ী তালাক এবং দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা দিয়ে দিলে মন্দের ভাল হয় এবং চক্রান্তের ইতি ঘটে।’ এরপর নিজের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পুরো ঘটনা বর্ণনা করে শাহবাগ থানায় মামলা করি, তালাকের নোটিস প্রদান করি এবং কথিত কাবিনে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করি। স্ত্রী দাবি করা মহিলার লোকজন এরপর একাধিক বার যোগাযোগ করে এবং আমার সামাজিক সম্মানকে জিম্মি বিশাল বিশাল দাবি করতে থাকে।’ ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা না করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন রনি। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমি নিজেকে অটল রাখি। মহিলার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করিনি তার সাবেক স্বামীর ওরসে পয়দা হওয়া বিবাহ উপযুক্ত এবং কিছুটা মানসিক অসুস্থ মেয়ের এবং কিশোর ছেলের কথা চিন্তা করে।’ ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্য ও আপনজনদের আগে থেকেই জানার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উল্লেখিত বিষয়টি আমার পরিবার, আত্মীয় স্বজন এবং আপনজনরা প্রথম দিন থেকেই জানতেন। কাজেই আমার মানসিক এবং নৈতিক শক্তি অটুট ছিলো এবং পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমার আপনজনরা সবাই আন্তরিকতা নিয়ে আমার পাশে দাঁড়ায়।’ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিষয়েও অভিযোগ তুলেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি লেখেন, ‘এরই মধ্যে চক্রান্তের অংশ হিসাবে মহিলা এবং তার গডফাদার ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরী করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। বনি আমিন নামক আরেক ইউটিউবারকেও দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেয় মূলত আমাকে হেয় করার জন্য।’ তালাক কার্যকর ও টাকা পরিশোধের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন রনি। তার ভাষায়, ‘ইতিমধ্যে, যেহেতু আইন মোতাবেক তালাক কার্যকর এবং রেজিস্ট্রি হয়ে যায় এবং মহিলা তার দাবিকৃত টাকা পেয়ে যায় সেহেতু বিষয়টি নিয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি লেখেন, ‘উল্লেখিত ঘটনার এতো পরে এনসিপির নাহিদরা কেন আমার স্ত্রী দাবি করা মহিলার প্রতি এতোটা আকৃষ্ট হলো এবং এই মহিলার নেতৃত্বে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখলো তা আমার বোধগম্য নয়।’ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ জমানায় আমার মতো বহু মানুষকে কিভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট জিম্মি করতো তা যদি কেউ জানতে চান তবে শাহবাগ থানায় করা আমার অভিযোগটি পড়তে পারেন।’ সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনটি আমার আপনজন, প্রতিপক্ষ এবং শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত। গোপন, লুকোচুরি এবং অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতার মতো কোন ঘটনা নেই। জীবনের সব ঝড় মোকাবেলা করেছি কিন্তু আপস করিনি। কারো সঙ্গে লাগতে যাইনি কিন্তু কেউ লাগতে এলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করেছি।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স