|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

জিপিএ-৫ পাওয়া রাকিবের হাসি কেড়ে নিল অপহরণকারীরা, বাবা-মায়ের স্বপ্ন এখন মাটির নিচে 

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫৪ এএম
৩৮৭ পঠিত
জিপিএ-৫ পাওয়া রাকিবের হাসি কেড়ে নিল অপহরণকারীরা, বাবা-মায়ের স্বপ্ন এখন মাটির নিচে 
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রাকিবুল ইসলাম (১৮)। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় কোচিং করছিল সে। ছেলের এমন সাফল্যে আনন্দে ভাসার কথা ছিল পরিবারের। স্বপ্ন ছিল, ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে গেছে রাকিবের...

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রাকিবুল ইসলাম (১৮)। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় কোচিং করছিল সে। ছেলের এমন সাফল্যে আনন্দে ভাসার কথা ছিল পরিবারের। স্বপ্ন ছিল, ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একদিন পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে গেছে রাকিবের জীবন। মুক্তিপণের জন্য অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের ২০ দিন পর নীলফামারীর ডিমলা থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাকিব গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছেলে। সে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল সে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় রাকিব। পরে অপরিচিত এক যুবক তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে রাকিবের চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠিয়ে ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দরিদ্র কৃষক বাবা খাদেমুল ইসলাম ধারদেনা করে এবং সুদে টাকা নিয়ে চার লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পেয়েও রাকিবকে মুক্তি দেয়নি অপহরণকারীরা।

এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এ খবরে আমাদের অনেক আনন্দ হওয়ার কথা ছিল। স্বপ্ন ছিল, ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, বড় হবে। কিন্তু ছেলের এই সাফল্যের আনন্দটুকুও উপভোগ করতে পারলাম না। মুক্তিপণ দিয়েছিলাম তাকে ফিরে পাওয়ার আশায়। টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত পেলাম না।’

মা জাহুরা বেগম বলেন, ‘ছেলের ভালো ফলাফলে কত স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে একদিন আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের বদলে এখন ছেলেকে হারানোর কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।’

জিপিএ-৫ পাওয়ার পর রাকিবকে ঘিরে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুনছিল পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয় সে। মুক্তিপণ দিয়েও সন্তানকে ফিরে পাননি বাবা-মা। ছেলের ফলাফলে আনন্দ করার বদলে এখন তার বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।


 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স