|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ট্রাম্পের ভরাডুবিতে এবার কি ইরান যুদ্ধ থামবে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ এএম
৩৫৬ পঠিত
ট্রাম্পের ভরাডুবিতে এবার কি ইরান যুদ্ধ থামবে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং বিতর্কিত শুল্ক ও অভিবাসননীতি নিয়ে বড় ধরনের তদন্ত ও বাজেট নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নির্বাচনে তাঁর ভরাডুবিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি–অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের হাতে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে জানুয়ারির শুরুতে যে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, তা ট্রাম্পের চলতি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে।

এত দিন কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্নকক্ষ—উভয় জায়গাতেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্পের নীতিগুলোর কঠোর মূল্যায়ন করার এবং তাঁদের অপছন্দের যেকোনো বিল বা আইন পাসে বাধা দেওয়ার বাড়তি ক্ষমতা পেলেন। অবশ্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াও একজন প্রেসিডেন্টের অনেক কিছু করার নির্বাহী ক্ষমতা থেকে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বরাজনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে আলাপ–আলোচনা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এ ভরাডুবির পেছনে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ যে বড় ভূমিকা রেখেছে, তা স্বয়ং ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ আংশিক দায়ী। তবে একই সঙ্গে মানুষ এটাও বোঝে যে ইরানকে নিয়ে আমি যা করেছি, তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

মূলত মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। আর এর ফলেই তাঁরা রিপাবলিকানদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ খাতের ব্যয়কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে ভোটারদের এ ক্ষোভকে কাজে লাগাতে পেরেছেন।

কংগ্রেসের কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এখনো চাইলে নতুন করে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন, তবে নতুন কংগ্রেসের কারণে এবার তাঁকে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে আগামী ১১ ডিসেম্বর বর্তমান সরকারি অর্থায়ন–সংক্রান্ত বিলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এতে নতুন করে সামরিক বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর বড় ধরনের বাজেট নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পাবেন।

কংগ্রেসের কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এখনো চাইলে নতুন করে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন, তবে নতুন কংগ্রেসের কারণে এবার তাঁকে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে আগামী ১১ ডিসেম্বর বর্তমান সরকারি অর্থায়ন–সংক্রান্ত বিলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এতে নতুন করে সামরিক বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর বড় ধরনের বাজেট নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পাবেন।

তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সেন্টার অন ইউএস পলিটিকসের গবেষণা ফেলো জেমস বয়েজ মনে করেন, কংগ্রেস চাইলেই রাতারাতি এ যুদ্ধ তহবিল বন্ধ করে দিতে পারবে না, বিষয়টি মোটেও সরল নয়। তাঁর মতে, রণক্ষেত্রে ইতিমধ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এমন অবস্থায় তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াটা বেশ জটিল হবে এবং এতে মার্কিন সেনাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলার মতো বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ১৯৭৩ সালের ফেডারেল আইন ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোল্যুশন’ (যুদ্ধ ক্ষমতা আইন) ব্যবহার করেও ট্রাম্পকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। অতীতেও এ আইন প্রয়োগের সব চেষ্টা ব্যর্থ বা অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

এই আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আকস্মিক কোনো হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে কংগ্রেস যদি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করে, তবে ৬০ দিনের মধ্যে সেই সামরিক অভিযান গুটিয়ে নিতে হবে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট চাইলে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভেটো দিতে পারেন। আর সেই ভেটো বাতিল করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশের সেই জাদুকরি সংখ্যার চেয়ে কম হবে।

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইউসিডি ক্লিনটন ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক স্কট লুকাস মনে করেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় কংগ্রেসের হাত কিছুটা বাঁধা ঠিকই, তবে ডেমোক্র্যাটরা চাইলে এমন একটি কৌশলগত আইন প্রস্তাব করতে পারেন, যা ট্রাম্পের নীতিতে ফাটল ধরাবে। এ নির্বাচনে ভোটাররা প্রেসিডেন্টের ওপর যে চরম অসন্তোষ দেখিয়েছেন, তারপর অনেক রিপাবলিকান সদস্য নিজেদের ট্রাম্প থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা সেই সব রিপাবলিকানকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে স্কট লুকাস উল্লেখ করেন, ‘স্বয়ং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন।’ গত সপ্তাহেও ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা এবং আরও হামলা এড়ানো। এমতাবস্থায় লুকাস প্রশ্ন তোলেন, ‘ভ্যান্স কি এখন যুদ্ধ বন্ধে আরও জোরালো চাপ দেবেন?’

অবশ্য জেমস বয়েজ ভিন্ন একটি আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, ট্রাম্প আর নতুন করে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। কারণ, এটিই তাঁর শেষ মেয়াদ। ফলে ট্রাম্পের মনে হতে পারে, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও দায়মুক্ত।

জেমস বয়েজ আরও বলেন, ‘দেশীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন। এর কারণ হতে পারে, তিনি বিশ্ব ইতিহাসে নিজের একটি অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়কোচিত উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসি রেখে যেতে চান।’

মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল বিল্ডিং

ট্রাম্পের শুল্ক ও বাণিজ্যনীতির কী হবে

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে গত বছর প্রায় ৯০টি দেশের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ববাজারকে ওলট–পালট করে দেওয়া এ সিদ্ধান্ত গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলেও, ট্রাম্প প্রশাসন সেই রায় এড়ানোর ভিন্নপথ খুঁজে নেয়।

সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ বিচারপতির রায়ের মাত্র কয়েক দিন পর ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতিতে আরও অনড় অবস্থান নেন। তিনি ভিন্ন একটি আইনের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। অবশ্য কংগ্রেস অনুমোদন না দিলে এ শুল্কের মেয়াদ মাত্র ১৫০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

ডেমোক্র্যাটরা বরাবরই ট্রাম্পের এ শুল্কনীতিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী করে আসছেন। তাঁদের মতে, এ শুল্কের দায় শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারকদের ওপর বর্তায় এবং তাঁরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে তা সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে উশুল করেন। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ডেমোক্র্যাটরা ‘মার্কিন জনগণের পকেট কাটা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

স্বয়ং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স শুরু থেকে এ যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। গত সপ্তাহেও ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা এবং আরও হামলা এড়ানো।

এখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসায় রপ্তানিকারকদের সাময়িক স্বস্তি দিতে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড়ের জন্য চাপ দিতে পারেন তাঁরা। তবে মার্কিন বাণিজ্যনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং হোয়াইট হাউসের নতুন বাসিন্দার আগমন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জেমস বয়েজ বলেন, ‘শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন।’ সরকার ইতিমধ্যে সংগৃহীত শুল্কের টাকা ফেরত দেবে কি না এবং দিলে ঠিক কত টাকা ফেরত দেবে, তা নিয়ে এখনো আইনি বিতর্ক চলছে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতেই থাকুক, একটি বিষয়ে উভয় দলই একযোগে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেটি হলো, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের প্রবেশাধিকারের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। এর মধ্যে রয়েছে ‘রিমোট অ্যাকসেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট’; যা মার্কিন পণ্য, সফটওয়্যার বা প্রযুক্তির দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রসারিত করবে। অন্যটি হলো ‘চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট’; যার অধীনে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপগুলো যেন কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কোম্পানিগুলোর জন্য চিপের অবস্থান যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড তদন্ত, অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কী হবে

অধ্যাপক স্কট লুকাস বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি বড় ফলাফল হলো, ডেমোক্র্যাটরা এখন কংগ্রেসের সব কমিটির সভাপতিত্বের দায়িত্ব পাবেন। এর ফলে তাঁদের যেকোনো বিষয়ে তদন্ত শুরু করার এবং সাক্ষীদের তলব বা সমন জারির আইনি ক্ষমতা থাকবে।

এ ক্ষমতার জোরে ট্রাম্প পরিবারের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে কঠোর তদন্ত শুরু করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তাঁরা ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন বা ইমপিচ করার চেষ্টাও করতে পারেন।

পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন কংগ্রেসের।

ট্রাম্প প্রশাসনের শরণার্থী ও অভিবাসী বিতাড়ন নীতিতে মার্কিন কর সংস্থা ‘ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস’ ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মধ্যকার যৌথ কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের সমন জারি বা তলবের নতুন ক্ষমতা ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করে আসছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ব্যাপক হারে অভিবাসী বিতাড়নের অংশ হিসেবে ট্রাম্প বিমানবন্দরগুলোতে লোকজনকে আটক এবং অভিবাসন আদালতে তাৎক্ষণিক শুনানির ব্যবস্থা করেছিলেন। গত মঙ্গলবারের নির্বাচনের ঠিক আগে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, অভিবাসীদের ওপর এই দমন–পীড়ন ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ ছিল।

অবশ্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, তাদের হেফাজতে থাকা অভিবাসী বন্দীদের প্রায় ৭০ শতাংশই অপরাধী—যদি তাঁদের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলাগুলো হিসাবে ধরা হয়।

তবে সমালোচকরা এ পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায়, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো সন্দেহভাজনকেই নির্দোষ বলে গণ্য করার নিয়ম রয়েছে।

স্কট লুকাস মনে করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এ ফলাফলের কারণে এখন ডেমোক্র্যাট ও দায়িত্বশীল রিপাবলিকান সদস্যরা অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে পারবেন, যা এই সংকট থেকে উত্তরণ ও একটি দায়িত্বশীল নীতি প্রণয়নে তাঁদের উৎসাহিত করবে।

অনুবাদ: মো. আবু হুরাইরাহ্

সূত্র: প্রথম আলো