|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

‘দীনা’ থেকে বিদিশা এরশাদ, সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় যেভাবে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
৩১০ পঠিত
‘দীনা’ থেকে বিদিশা এরশাদ, সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় যেভাবে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কবি আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে বিদিশা সিদ্দিক। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই সম্পর্কের সূত্রে পরিচিতি পান বিদিশা এরশাদ নামে। তবে এই পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে তার ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষাজীবন, কর্মজীব...
কবি আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে বিদিশা সিদ্দিক। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই সম্পর্কের সূত্রে পরিচিতি পান বিদিশা এরশাদ নামে। তবে এই পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে তার ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও নানা উত্থান-পতনের গল্প। সম্প্রতি কালবেলার ‘কালের কথা’ অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন বিদিশা এরশাদ। সেখানে বাবার দেওয়া নাম, ডাকনাম, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে প্রথম পরিচয়, প্রেম, বিয়ে ও বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতাসহ ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। বিদিশা জানান, জন্মগতভাবে তার নাম ছিল বিদিশা সিদ্দিক। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের কাছে তার ডাকনাম ‘দীনা’। এখনো মা, ভাইবোন ও স্বজনেরা তাকে এই নামেই ডাকেন। তবে জনপরিসরে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বিদিশা এরশাদ নামে। নিজের নামের পরিচয় প্রসঙ্গে বিদিশা বলেন, ‘আমার ডকুমেন্টস ওয়াইজ সব জায়গায় আমার বিদিশা সিদ্দিক নামই আছে। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে বিদিশা এরশাদ নামটাই গেঁথে আছে।’ শিক্ষাজীবন ও ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে পথচলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে ওঠা বিদিশার আগ্রহ ছিল সৃজনশীল কাজের প্রতি। তিনি লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন। পরে সিঙ্গাপুরে গিয়ে লা-সাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর ডিগ্রি নেন। পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে ফিরে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। সে সময় দেশে তৈরি পোশাকশিল্পের প্রসার ঘটছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঢাকায় ফ্যাশন ও পোশাকশিল্পের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। যেভাবে পরিচয় এরশাদের সঙ্গে বিদিশার ভাষ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে থাকার সময় থেকেই বাংলাদেশে ফিরে কিছু করার ইচ্ছা ছিল তার। দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করার পর একটি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে এক রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম এবং একপর্যায়ে বিয়ে। এভাবেই জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেন বিদিশা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কোন দিকটি প্রথম আকৃষ্ট করেছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে বিদিশা বলেন, ‘প্রেমিক হিসেবে উনি ভালো। উনি খুব সুন্দর সুন্দর করে কথা বলতেন। উনি কখনো জোরে কথা বলতেন না। যেটা আমার সবথেকে প্রিয় ছিল।’ ব্যক্তিগত মানুষ হিসেবে এরশাদকে কেমন দেখেছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এরশাদ ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ। কারও দুঃখ-কষ্ট দেখলে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন তিনি। প্রেম থেকে বিয়ে, এরপর বিচ্ছেদ এরশাদের সঙ্গে বিদিশার সম্পর্ক ও বিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের সম্পর্কের সূচনা ১৯৯৮ সালে। পরবর্তী সময়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এই দম্পতির সন্তান শাহাতা জারাব এরশাদ, যিনি এরিক নামে পরিচিত। তবে তাদের সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৫ সালে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তী সময়ে ছেলে এরিকের অভিভাবকত্ব ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সাক্ষাৎকারে সম্পর্কের অবনতির কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও এরিকের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধের কথা তুলে ধরেন বিদিশা। তার দাবি, ২০০৫ সালে মহাজোট গঠনের বিষয়টি নিয়ে তাকে দায়ী করা হয়েছিল। পাশাপাশি ছেলে কার কাছে থাকবে, তা নিয়েও দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও তাদের সম্পর্কের শেষ অধ্যায়টি যে পুরোপুরি তিক্ত ছিল না, সেই কথাও জানিয়েছেন বিদিশা। তিনি বলেন, শেষদিকে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছিল। আমরা আলাদা বাড়িতে থাকলেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলাম। আমি রান্না করলে এরশাদের পছন্দের খাবার পাঠিয়ে দিতাম। শীতকালে পিঠা এবং শবে বরাতে হালুয়াও বানিয়ে পাঠাতাম। বিদিশার ভাষায়, ‘আমরা লাস্টে কিন্তু উই বিকেম এ ভেরি গুড ফ্রেন্ড।’ এরশাদের পরিচয়ের বাইরে নিজের পরিচয় বিদিশা মনে করেন, তার দুটি পরিচয় রয়েছে। একটি কবি আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে হিসেবে বিদিশা সিদ্দিক, অন্যটি এরশাদের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে বিদিশা এরশাদ। পাশাপাশি ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে নিজের পেশাগত পরিচয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, এরশাদ সাহেবের সঙ্গে বিয়ের কারণে রাজনৈতিক পরিচয় পেলেও আমি জন্মগতভাবে রাজনীতিবিদ না। রাজনীতি আমাকে নতুন করে শিখতে হয়েছে। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না, জানতে চাইলে বিদিশা বলেন, এরশাদ সাহেবকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। জীবনে যখন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নিজের ইচ্ছা থেকেই নিয়েছি। সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পরিচিতি পাওয়া বিদিশা এরশাদের জীবনের গল্প তাই শুধু প্রেম ও বিয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের কর্মজীবন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠার নানা অধ্যায়।  

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স