|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ফের রিমান্ডে দিশা: ৭ কারণ জানতে চায় তদন্তকারীরা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
৪০৯ পঠিত
ফের রিমান্ডে দিশা: ৭ কারণ জানতে চায় তদন্তকারীরা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে ফের ৩ ‍দিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারীরা। দিশার দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে সাতটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। প্রথম দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করে বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে দিশাকে...

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে ফের ৩ ‍দিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারীরা। দিশার দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে সাতটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।

প্রথম দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করে বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে দিশাকে দ্বিতীয় দফায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। তবে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, তাহসিফের সঙ্গে ঘটনার দিন দিশার কোনো বিরোধ হয়েছিল কি না, তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল কি না এবং মামলার আরেক সন্দেহভাজন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার তথ্য মিলিয়ে দেখতে চান তারা।

এদিন প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ডের পক্ষে জোরালো শুনানি করা হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ডে বিভিন্ন কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদে দিশা ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে দিশা জানিয়েছেন, ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ সাউরির সঙ্গে উত্তরা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন তিনি। ওই দিন সন্ধ্যায় একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও খাবার খেয়েছেন। এ ছাড়া তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেল গ্যারেজে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে বাইকে ঘোরাঘুরির কথাও জানিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, দিশা অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেছেন। ফলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার আরেক সন্দেহভাজন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া তথ্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় দিশার সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

দিশার দ্বিতীয় দফার রিমান্ড আবেদনে সাতটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাত কারণ হল:

১. ঘটনার দিন তাহসিফ সাউরির সাথে সন্দিগ্ধ আসামি দিশার উত্তরা ১৮নং সেক্টর রুআপ কমপ্লেক্সে সিপি ফাইভ স্টার নামক ফাস্ট ফুডে স্ন্যানস খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আবেগপ্রবণ কথাবার্তা কিংবা বাক-বিতণ্ডা হয়েছিল কিনা তার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

২. ঘটনার দিন তাহসিফ দিশার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ কোনো কথাকাটাকাটি কিংবা বাক-বিতণ্ডা হয়েছিল কিনা তার তথ্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

৩. ঘটনার দিন বা কিংবা আগে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়ন যাচ্ছিল কিনা তা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

৪. মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।

৫. অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেপ্তার ও শনাক্ত।

৬. আলামত উদ্ধার।

৭. দিশা ও দীপের বক্তব্য ক্রসচেক করা।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। আগের দিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স