|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বিচারক নাহিদ রুমানার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে ব্যারিস্টার সারোয়ারকে লিগ্যাল নোটিশ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
১৭৫ পঠিত
বিচারক নাহিদ রুমানার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে ব্যারিস্টার সারোয়ারকে লিগ্যাল নোটিশ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ও তার ব্যক্তিগত সুনাম এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্নের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অবিলম্বে তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষ...

পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ও তার ব্যক্তিগত সুনাম এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্নের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অবিলম্বে তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ও কনটেন্ট অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মাহফুজুল ইসলামের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবদের কাছেও নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ‘পিরোজপুরে বিচারক নাহিদ রুমানা মিতুর আদালতে মোহাম্মদ বাহাদুর হোসেন নামের এক ব্যক্তি একটি মামলার বাদী ছিলেন। ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন ওই ব্যক্তির ভাই। মামলাটি তাদের পক্ষে নিতে বিচারকের ওপর একাধিকবার চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।’

ইশরাত হাসানের দাবি, বিচারক কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেন। তবে সেই রায় তাদের বিপক্ষে যাওয়ার পর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যারিস্টার সারোয়ার। মামলাটির রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করা হয়েছে। আপিলটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন এবং মামলার নথিও সেখানে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ‘একটি মামলার রায় বিপক্ষে যাওয়ায় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বিচারকের মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার হীন উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বিষয়টি শুধু একজন বিচারকের ব্যক্তিগত মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, এর সঙ্গে পুরো বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্ন জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে দুই সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও কনটেন্ট অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’

নোটিশ পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাত হাসান বলেন, ‘বিচারকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। অথচ প্রমাণের আগেই সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে তাকে জনসমক্ষে হেয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগে প্রকাশ্যে দুর্নীতি চলছে, এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।’

ব্যারিস্টার সারোয়ারের বিরুদ্ধে পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই আইনজীবী বলেন, ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারবিষয়ক বিধিমালা অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে অন্যদের নিজের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো আইনজীবীর পেশাগত আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ধরনের আহ্বান জানানো পেশাগত অসদাচরণ।’

ইশরাত হাসান বলেন, ‘আমাদের চাওয়া, আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরিয়ে ফেলবে এবং ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে এসে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স