|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

মাঠে অনৈতিক সম্পর্ক দেখাটাই কাল হয় স্বামী-স্ত্রীর

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
২৪৬ পঠিত
মাঠে অনৈতিক সম্পর্ক দেখাটাই কাল হয় স্বামী-স্ত্রীর
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
যশোরের কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের সময় দেখে ফেলায় ওই দম্পতিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল (৪৫) ও জেসমিন বেগম (৩৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)...

যশোরের কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের সময় দেখে ফেলায় ওই দম্পতিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল (৪৫) ও জেসমিন বেগম (৩৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মিরাজুল ইসলাম।

নিহত দম্পতি হলেন কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের আলেক ও তার স্ত্রী মাজেদা। গ্রেপ্তার জেসমিন একই এলাকার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী। মোস্তফা কামাল মৃত কেসমত সরদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, মোস্তফা ও জেসমিনের মধ্যে চার থেকে পাঁচ মাস ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুরের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানক্ষেতে সেচযন্ত্রের পানি নিষ্কাশনের নালা থেকে এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে ২ নভেম্বর জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে মোস্তফা কামালের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, জেসমিন অভয়নগর উপজেলার একটি পাটকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। নিহত মাজেদাও একই কলে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার কারখানা বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে বস্তা ও কাঁচি নিয়ে মাজেদার সঙ্গে মাঠে ঘাস কাটতে যান জেসমিন। ওই সময় মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলাম নিজের জমিতে ঘাস লাগানোর কাজ করছিলেন। কিছু দূরে মোস্তফা কামাল তার জমিতে ফুলকপির চারা রোপণ করছিলেন।

পুলিশ জানায়, মাঠে মোস্তফা ও জেসমিনের দেখা হলে তারা অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। দূর থেকে বিষয়টি দেখে মাজেদা জেসমিনকে নাম ধরে ডাক দেন। এতে মোস্তফা ও জেসমিনের আশঙ্কা হয়, মাজেদা ঘটনাটি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন। এ কারণে তারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পরে কলমিশাক তোলার কথা বলে আলেক ও মাজেদাকে মাছের ঘেরের পাশে নিয়ে যান মোস্তফা ও জেসমিন। তারা সামনে হাঁটছিলেন, আর পেছনে ছিলেন মোস্তফা ও জেসমিন। তালতলার মাছের ঘেরের কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা একটি ধারালো যন্ত্র দিয়ে আলেকের বগলের নিচে আঘাত করেন এবং মাথায় আঘাত করেন। অন্যদিকে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেন।

পুলিশ আরও জানায়, পরে মোস্তফা আলেককে পুরোনো সেচযন্ত্রের পানি নিষ্কাশনের নালায় ফেলে দেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আলেক সেখান থেকে উঠে আসতে পারেননি। মাজেদাকে গলায় ফাঁস দেওয়ার পরও শ্বাস নিতে দেখে মোস্তফা কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পায়ে আঘাত করেন। এরপর তাকেও সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। আলেকের মরদেহ গামছা দিয়ে ঢেকে দেন মোস্তফা। পরে ব্যবহৃত কাঁচিটি ঘেরের পানিতে ধুয়ে মোস্তফা ও জেসমিন নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স