|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

মিরপুরে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ছবি-ভিডিও যায় আলিফের মুঠোফোনে, আসে টাকা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
১৯৬ পঠিত
মিরপুরে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ছবি-ভিডিও যায় আলিফের মুঠোফোনে, আসে টাকা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, মিরপুরের গাড়ি পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, এ ঘটনার পেছনে ছিলেন আলিফ মোল্লা।

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তাঁদের অন্তত তিনজনের মুঠোফোন থেকে নাশকতার ছবি ও ভিডিও একটি নম্বরে পাঠানোর প্রমাণ তারা পেয়েছে। ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর তিন আসামির মুঠোফোনে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে এসেছে।

পুলিশ আরও বলছে, যে ব্যক্তির মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর টাকা এসেছে, তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা। ইলিয়াস মোল্লা ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এখন তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান প্রথম আলোকে বলেন, মিরপুরের গাড়ি পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, এ ঘটনার পেছনে ছিলেন আলিফ মোল্লা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের মুঠোফোনে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ভিডিও পাওয়া গেছে। ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর টাকা আসার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

ঢাকা, গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন জায়গায় দুই দিন ধরে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি করছেন, যা এখন সাড়ে ১২ হাজার টাকা।

সোমবারও মিরপুরে বিক্ষোভের চেষ্টা হয়। সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে নামার চেষ্টা করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ধাওয়া দেয় এবং কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ার) শেল ছোড়ে।

সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়।

পুলিশের বাধার মুখে শ্রমিকেরা বড় ধরনের বিক্ষোভ করতে পারেননি। মিরপুর ১০ নম্বর ও আশপাশের এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

এদিকে সরকার রোববারই শ্রমিকের মজুরি বাড়াতে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মুখোশধারী ব্যক্তিরা আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছেন, যাঁরা দাবি আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এবং শ্রমিকও নন, তাঁরাই সড়কের আন্দোলনে নৈরাজ্য তৈরি করছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। ২ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদের সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। যাঁরা সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন, তাঁদের পেছনে যাঁরা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁরা চিহ্নিত হয়েছেন।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্রের দাবি, তারা ২৫টির মতো হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় নাশকতার জন্য লোক সংগঠিত করতে এসব গ্রুপ ব্যবহার করা হয়েছে। কোথায় পুলিশ অবস্থান করছে, কোথায় জড়ো হয়ে ঘটনা ঘটাতে হবে, এসব গ্রুপ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মিরপুরে রোববার শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে ১১ জনকে। তাঁরা হলেন মাহমুদুর রহমান জুয়েল (৩৮), মো. অলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. কামাল গাজী (৩২), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), রমজান সরকার (১৮), মো. মাহিম মোল্লা (১৮), মো. জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান (২২), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ (১৮) ও মো. নাহিদ হাসান (১৮)।

সোমবার পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠায়। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেখানে তাঁদের কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনদের পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের দাবি সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পাঁচ মামলায় আসামি পাঁচ হাজার

মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা করেছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচটি মামলার প্রতিটিতে অজ্ঞাতনামা এক হাজারের বেশি আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার মিরপুরের পরিস্থিতি নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের গোলচত্বর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতকালের ঘটনায় শুধু শ্রমিকেরাই জড়িত ছিলেন, এমন নয়। তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো