|
| |
সোমবার, ০৯ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হলে মাঠে নামব: হুইপ বকুল

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
৩৬৭ পঠিত
সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হলে মাঠে নামব: হুইপ বকুল
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
খুলনায় চাঁদার দাবিতে একের পর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ওষুধের দোকানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগও করছেন না। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষ...

খুলনায় চাঁদার দাবিতে একের পর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ওষুধের দোকানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগও করছেন না।

এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা মাঠে নামবেন।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা হয় এ সমস্যার সমাধান করবেন, না হয় আত্মসমর্পণ করে চলে যাবেন। এর কোনো বিকল্প নেই।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর রাতে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে নগরের বাবু খান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় চিকিৎসকদের কক্ষ, কাউন্টার ও টেলিভিশন ভাঙচুরের পাশাপাশি গুলিও করা হয়। পরদিন একই মালিকের অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক চিকিৎসককে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এরপর ৩ নভেম্বর শামসুর রহমান রোডের আব্দুল্লাহ প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সর্বশেষ শনিবার খানজাহান আলী রোডের অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া চাঁদার হুমকিতে ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের চয়নিকা ফার্মেসি।

এসব ঘটনায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি। খুলনা সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন জানান, সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেননি। অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার রেজাউর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা মামলা না করা এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত জামিনে মুক্তির বিষয়টিও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

নাগরিক সমাজের নেতা আইনজীবী বাবুল হাওলাদার বলেন, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-চাঁদাবাজি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিফলন। অপরাধীরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধে জড়াচ্ছে।

হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তারা উদ্বিগ্ন। কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল বুঝি না। আমরা জনগণের প্রতিনিধি। কোনোভাবেই সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য থাকতে দেওয়া হবে না। প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা মাঠে নামব।’

সূত্র: কালবেলা