যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজারের বেশি স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্মকর্তার তথ্য ফাঁস
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) ৪০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য প্রকাশ করেছে তথ্য ফাঁসের একটি ওয়েবসাইট। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, পদবি ও দাপ্তরিক ইমেইল গ্রুপের বিবরণ। এমনকি নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কম্পিউটার ফরেনসিকস ও গোপন অভিযানে নিয়ো...
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) ৪০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য প্রকাশ করেছে তথ্য ফাঁসের একটি ওয়েবসাইট। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, পদবি ও দাপ্তরিক ইমেইল গ্রুপের বিবরণ। এমনকি নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কম্পিউটার ফরেনসিকস ও গোপন অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের তথ্যও এতে রয়েছে।
বুধবার ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ নামের একটি অলাভজনক তথ্য স্বচ্ছতা সংস্থা এসব তথ্য প্রকাশের কথা জানায়। সংস্থাটির দাবি, ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামের একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রকাশনা করা হয়েছে।
ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তারা জানে এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ বিভাগ (আইসিই), কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য রয়েছে।
তথ্য স্বচ্ছতা সংস্থাটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট বলেন, হ্যাকটিভিস্ট ও সাংবাদিক ‘মাইয়া আর্সন ক্রাইমিউ’ এসব তথ্য খোঁজার জন্য একটি সার্চ টুল তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণ তথ্যগুলো দেখতে পারবে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, সরকারি নথি চেয়ে আবেদন এবং কংগ্রেসের নজরদারিতে এটি সহায়তা করবে বলে দাবি করেন তিনি।
‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে তথ্যের সঙ্গে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, ডিএইচএসের কাছে তাদের তথ্য রয়েছে, তাই তাদের কাছেও ডিএইচএসের তথ্য থাকা ন্যায্য। সংস্থাটির কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে ক্ষতি কমাতে এসব তথ্য কাজে লাগবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে তারা।
এমা বেস্টের বিবৃতি অনুযায়ী, ডিএইচএসের ব্যবহৃত ওকটা সাইন-ইন সেবা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’। তবে রয়টার্স এ দাবি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি। ওকটা জানিয়েছে, তাদের সেবা নিরাপদ রয়েছে এবং তাদের তথ্য বা ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
রয়টার্স ফাঁস হওয়া সব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ফাঁসের তালিকায় থাকা ডিএইচএসের ছয় কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য বিভিন্ন নথি ও তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে তারা। এ ছাড়া তিন কর্মীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের ফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। তাদের একজন জানান, তথ্য ফাঁসের বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না।
কিছু তথ্য ডিএইচএস কর্মকর্তাদের লিংকডইন প্রোফাইলেও পাওয়া গেছে। তবে অন্য কিছু তথ্যের মাধ্যমে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো, আগে প্রকাশ না করা কর্মসূচি ও অভিযান সম্পর্কেও জানা গেছে।
গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য ফাঁসের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা। সেপ্টেম্বরে ‘শাইনি হান্টার্স’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এফবিআইয়ের হাজারো কর্মীর সংবেদনশীল চাকরিসংক্রান্ত ও চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য চুরির দাবি করে। গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যের তথ্য প্রকাশের অভিযোগে বিভাগটির বিরুদ্ধে একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলা হয়।
সূত্র: রয়টার্স
সূত্র: কালবেলা