জয়পুরহাটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরেই ঝুলছে তালা, বিক্রির অভিযোগ
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
জয়পুরহাটে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে সরকার নির্মাণ করেছে আশ্রয়ণের ঘর। কিন্তু সেই ঘরের অধিকাংশেই ঝুলছে তালা। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ঘর বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে জমিজমা রয়েছে- এমন ব্যক্তিদের নামেও ঘর বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারের এই মানবিক...
জয়পুরহাটে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে সরকার নির্মাণ করেছে আশ্রয়ণের ঘর। কিন্তু সেই ঘরের অধিকাংশেই ঝুলছে তালা। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ঘর বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে জমিজমা রয়েছে- এমন ব্যক্তিদের নামেও ঘর বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের সুফল নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলন্দপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরে ঝুলছে তালা। আবার অভিযোগও আছে কিছু ঘর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া জায়গা জমি ও ঘরবাড়ি আছে এমন ব্যক্তিদেরও দেওয়া হয়েছে আশ্রয়ণের ঘর।
আশ্রয়ণের পাশেই দাউদপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ধুলবর রহমান বলেন, কলন্দপুর দক্ষিণ আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু কিছু ঘরে মানুষ থাকে না। তাছাড়া ঘরবাড়ি, জমিজমা সবই আছে তারপরও এখানে ঘর নিয়ে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, রঞ্জিত নামে এক ব্যক্তির নামে এখানে ঘর দেওয়া হয়েছে অথচ গ্রামের ভিতরে তার বাড়ি আছে এবং সে ৪-৫ বিঘা জমি আবাদ করে। শুধু তাই নয় এখানে তার নামে ঘর থাকলেও সে এই ঘরে থাকে না। ঘরে তালা ঝুলছে।
দাউদপুর গ্রামের রশিদুল হাসান বলেন, এখানে যখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয় তখন আমরা সরকারি লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের বলেছি যে, যাদের জায়গা জমি নেই বা ঘরবাড়ি নেই তাদের নামে দেওয়া হোক কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনেননি। এখন কেউ ঘর বিক্রি করে চলে গেছে, আবার কেউ থাকেনা ঘরে তালা ঝুলছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দাদের অভিযোগ, যাদের থাকার জায়গা নেই, এমন অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার আশ্রয়ণের ঘর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জমিজমা থাকা ব্যক্তিদের নামেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিছু ঘর। এমনকি বরাদ্দ পাওয়া ঘর বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের সময় অনিয়ম হয়েছে বলেও জানান স্থানীয় ৬ নং আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম আরেফিন চৌধুরী আবু। তিনি বলেন, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বিতরণের সময় অনেকক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে, যাদের কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে ঘর হস্তান্তর করেছে, কেউ কেউ থাকেনা সেই ঘরগুলোতে তালা ঝুলছে। অথচ এমন মানুষ আছে যারা আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত আসা তাদের থাকার জায়গা নেই। আর কিছু মানুষ আছে যারা আশ্রয়ণ ঘরে থাকে না, তারা ঘরগুলো ফেলে রেখেছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে করে প্রকৃত উপকারভোগীদের আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স