|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সৌদিতে সেনা পাঠানোর আগে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন: সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
২৯৭ পঠিত
সৌদিতে সেনা পাঠানোর আগে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন: সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের করা মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যাবে কি না তা কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়। কোনো ভাবাবেগ নয় বরং গভীর চিন্তার মাধ্যমে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বাংলাদেশি সৈন্য পাঠানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে মক্কা চুক্তিতে যুক্ত না হয়েও স...

সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের করা মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যাবে কি না তা কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়। কোনো ভাবাবেগ নয় বরং গভীর চিন্তার মাধ্যমে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বাংলাদেশি সৈন্য পাঠানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে মক্কা চুক্তিতে যুক্ত না হয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মক্কা চুক্তি মূলত দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো এ চুক্তিতে রয়েছে বলে মনে হয় না। এতে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে মক্কা চুক্তিতে যাবে কি না তা কঠিন সিদ্ধান্তের বিষয়। কোনো ভাবাবেগ নয় বরং গভীর চিন্তার মাধ্যমে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাবে কি না তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। প্রয়োজনে মক্কা চুক্তি না করে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় উপায়েও সৈন্য পাঠানো যেতে পারে। বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে ভারত, ইসরায়েল, ইউএই মিলে আরেকটি অক্ষশক্তি তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট বর্তমানে জটিল অবস্থায় উপনীত। 

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে জটিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। হুতিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই এ সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মির ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানরা নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি ও অধিকারবঞ্চিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া-সুন্নি সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মুসলিম বিশ্বের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ওআইসি, জিসিসি ও আইএমসিটিসির মতো সংস্থাগুলো প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। মুসলিম বিশ্বের অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুযোগ নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীরা ইসলামোফোবিয়া ছড়াচ্ছে। ইসলামকে সহিংস ও উগ্রপন্থি ধর্ম হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টাও চলছে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, ইসলামি শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যকার বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে ইসলামবিদ্বেষীদের অপপ্রচার অনেকটাই প্রতিহত করা সম্ভব হবে। এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কীভাবে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করা যায়, সেটিও দেখতে হবে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজয়ী হয় আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহের বিতার্কিকরা। সরকারি দল হিসেবে অংশ নেওয়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা পরাজিত হন।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, এ কে এম মঈনুদ্দিন, ইমরুল কায়েস ও শাতিলা শারমিন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

সূত্র: কালবেলা