|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
২৬৬ পঠিত
এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে বাড়তি তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ৩টায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হ...
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে বাড়তি তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ৩টায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অধিবেশনের বিশেষত্বই ছিল, বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণ সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রস্তাব গ্রহণ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তবে বাড়তি এই সময়ের কার্যকর ব্যবহার নির্ভর করবে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটানো, সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর। সাধারণ পরিষদের সদস্য উরুগুয়ে বাংলাদেশের পক্ষে এই প্রস্তাবের উত্থাপন করে। এতে জি-৭৭-ভুক্ত দেশগুলো এবং চীন সমর্থন ব্যক্ত করে। সাধারণ পরিষদ মনে করে, এমনভাবে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ হতে হবে, যাতে তা টেকসই ও অপরিবর্তনীয় হয় এবং কোনো দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিঘ্ন না ঘটে। এর আগে, এ অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য ২০ অক্টোবর তৈরি হওয়া এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার বাড়তি সময় সংক্রান্ত এ/৮১ /এল.৮ নম্বর খসড়া প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত করার কথা বলা হয়। সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালের প্রস্তাবটিও অনুমোদিত হয়। আগামী ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হওয়ার কথা ছিল। এই উত্তরণ হলে পুরোদমে উন্নয়নশীল দেশ হবে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ নিজেদের সদস্যদেশগুলোকে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ—এই দুই ভাগে বিভক্তি করে। এলডিসি তালিকার দেশগুলোও উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে যারা একটু পিছিয়ে থাকে, অন্য দেশের সহায়তা লাগে—এমন দেশকে এলডিসিভুক্ত করা হয়। ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশ। এরপর থেকে এ পরিচয়ের সুবাদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে আসছে দেশটি। বিশেষ করে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব সুবিধা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরেই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) প্রতি তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা—এই তিনটি সূচকের ভিত্তিতে উত্তরণের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, তিনটি সূচকের মধ্যে অন্তত দুটিতে নির্ধারিত মান অর্জন করতে হয়। তবে মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হলে বিকল্পভাবেও উত্তরণের যোগ্যতা পাওয়া যায়। মূল্যায়নের মানদণ্ড সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তরণের শর্ত পূরণ করে। সূচকগুলো হচ্ছে মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই)। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশকে ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে করোনা মহামারির প্রভাব বিবেচনায় উত্তরণের সময় দুই বছর বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন আসে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৬ সালেই উত্তরণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর উত্তরণ আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।  

সূত্র: কালবেলা