|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থি সদস্য

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
১৬৪ পঠিত
আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থি সদস্য
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
একসময় সর্বহারা চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার মতো ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাত সাধারণ মানুষ। সেই অন্ধকার অতীত পেছনে ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি ও সর্বহারা...

একসময় সর্বহারা চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যার মতো ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাত সাধারণ মানুষ। সেই অন্ধকার অতীত পেছনে ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি ও সর্বহারা সদস্য।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসআরবি-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া। সঞ্চালনা করেন স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ। 

আত্মসমর্পণকারী আয়নুল হক বলেন, ‘অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুবই ভালো লাগছে।’

আত্মসমর্পণকারী মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, ‘ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছি। দীর্ঘ বছর কেটে গেছে। আমার সাথী ভাইয়েরা অনেক সময় বলতেন, অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না। কেমন আছে পরিবার।

আত্মসমর্পণকারী আলম সেখ বলেন, আমরা একসময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। যখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও পেতাম না, তখন অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।

প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন বলেন, আমরা চেষ্টা করব যেন দেশের যে সোশ্যাল কন্ট্রাকটির মাধ্যমে তাদেরকে যে অধিকার দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে, সে অধিকার যেন আমরা তাদেরকে পৌঁছে দিতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আসলে সর্বহার একা হয় না, যারা বিপ্লবকে অন্য অর্থে ব্যবহার করবে সে দায়িত্বটা আমাদের, এটা রাষ্ট্রের, একটি সরকারের। আপনার সবাই জানেন বর্তমান সরকার একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আপনারা আজ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। আপনাদের কী প্রয়োজন সেটা বর্তমান সরকার ব্যবস্থা করবে।

এছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম আলীসহ পুলিশ, এসআরবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, চরমপন্থি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে তৎকালীন র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে সাত জেলার আরও ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন। 

সূত্র: কালবেলা