|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন মালিকরা: বিজিএমইএ সভাপতি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
৩৫৫ পঠিত
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন মালিকরা: বিজিএমইএ সভাপতি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
তৈরি পোশাক কারখানায় চলমান অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন মালিকরা। এমন সিদ্ধান্ত নিতে না চাইলেও পরিস্থিতি বাধ্য করলে এ পথে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির...

তৈরি পোশাক কারখানায় চলমান অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন মালিকরা।

এমন সিদ্ধান্ত নিতে না চাইলেও পরিস্থিতি বাধ্য করলে এ পথে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান (বাবু)।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা যায়। এতে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

কারখানা বন্ধের বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা আমাদের সদস্যদের ধৈর্য ধরতে বলেছি। আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছি। কাল যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে আমাদের সদস্যরা বিজিএমইএকে এই ম্যান্ডেট দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে তারা শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। আমরা সেই জায়গায় যেতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করলে ওই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।’

কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২৩৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। দুপুরের খাবারের বিরতির পর সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০টি কারখানায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আজকের এই সভার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের কারখানার যেসব উদ্যোক্তা প্রতিদিন সকালে কারখানা খুলছেন, গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে তাঁদের একটি বড় অংশ কারখানা চালাতে পারছেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আমাদের সম্মানিত সদস্যরা বিজিএমইএ কী করছে এবং এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা কী, তা জানার জন্য আমাকে এই সভা আহ্বান করতে বলেছেন।’

সভায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের সভা থেকে আমরা সবাইকে একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হচ্ছে—সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে বোর্ড গঠন। সেটি গঠন হওয়ার আগেই এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা করা, কারখানা ভাঙচুর করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে আমরা মজুরির আন্দোলন মনে করি না।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আজ যেহেতু বোর্ড গঠিত হয়ে গেছে, সেহেতু এই বোর্ড তাদের কাজ করবে। নিম্নতম মজুরি কত নির্ধারণ করা হবে, তা বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্যরা নির্ধারণ করবেন। সেখানে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি আছেন, সরকারের প্রতিনিধি আছেন। সবাই মিলে এটি নির্ধারণ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বোর্ডের নির্ধারিত মজুরি ঘোষণা করার আগেই, যখন প্রক্রিয়ার সময় এখনো শেষ হয়নি, তখন বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, মজুরি আন্দোলনের বাইরে অন্য কারও ইন্ধনও থাকতে পারে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘আজ যেহেতু বোর্ড গঠিত হয়ে গেছে, সেহেতু আগামীকাল থেকে কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ পাবেন না বলে আমরা আশা করি। এরপরও যদি কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কারখানার বাইরে থেকে ঢিল ছোড়ার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেখা গেছে, বাইরে থেকে ঢিল ছোড়া হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকরা বেরিয়ে যাচ্ছেন। আতঙ্কিত হয়ে যেসব শ্রমিক বেরিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাকে তো আমরা দায় দিতে পারি না। যারা এই অরাজকতা তৈরি করছে, দায় তাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছে যতদূর জানি, তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’

সূত্র: কালবেলা