মিরপুরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরে ৫ মামলা, আজও বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে নামার চেষ্টা
গণমাধ্যম ডেক্স
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন–ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে ওই ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আজ সোমবার এসব মামলা করে।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার আজ প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচটি মামলার প্রতিটিতে অজ্ঞাতনামা এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে আজ সকালে ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গতকাল বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে বিভিন্ন স্থানে যাঁরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে আজ সকালে বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে নামার চেষ্টা করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল ছোড়া হয়। পরে শ্রমিকেরা সেখান থেকে সরে যান। এ ছাড়া আজ সকালে রূপনগর এলাকা থেকে শ্রমিকেরা বিচ্ছিন্নভাবে মিরপুর ২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে আসতে থাকেন। তাঁরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ–সংঘর্ষের পর আজ সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যান প্রস্তুত রাখা হয়।
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতি ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান নিয়ে আজ সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম।
মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গতকাল রোববারের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মহিদুল ইসলাম বলেন, গতকালের ঘটনায় শুধু শ্রমিকেরাই জড়িত ছিলেন, এমন নয়। তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অমান্য করে দেশের ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের সতর্ক অবস্থানের বিষয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। তাঁদের কার্যক্রম চলমান। তাঁরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো