মুঠোফোন দেখে উত্তর লিখছিল শিক্ষার্থী, বহিষ্কারের পর স্কুলের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণ
গণমাধ্যম ডেক্স
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসির নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় মুঠোফোন সঙ্গে নিয়ে যান এক শিক্ষার্থী। প্রশ্ন পাওয়ার পর উত্তর লিখছিলেন ওই মুঠোফোন দেখে। এ সময় কক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন। এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের পেছনে পরপর দুটি ককেটল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যালয়ে।
আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। সেখান থেকে নিবন্ধনহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মোটরসাইকেলটি স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদের বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলছিল। আজ ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুঠোফোন জব্দ করেন। এ সময় মুঠোফোন দেখে নকল করতে দেখে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন ওই কক্ষের দায়িত্বরত এক শিক্ষক। বহিষ্কার হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যায়। বিদ্যালয়ের ভবনের ঠিক পেছনে সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিস্ফোরণের সময় আমি নিজ কক্ষে ছিলাম। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বলতে পারব না। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল জমা দিতে বলা হয়েছিল। কয়েকজন জমা দেয়। মুঠোফোন দেখে এক শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। কিছুক্ষণ পরই বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।’
বিদ্যালয়ের পাশেই পুলিশ ক্যাম্প। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পড়ে থাকা একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটি স্থানীয় জামায়াতের নেতা খাজা আহমেদের। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আগামীকাল সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করবে বলে জানিয়েছে।
খাজা আহমেদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী। চলতি বছরের এপ্রিলে ফিলিপনগর এলাকায় একটি দরবারে হামলা চালিয়ে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যা মামলার প্রধান আসামিও তিনি।
বিষয়টি নিয়ে রাত সোয়া ১০টার দিকে খাজা আহমেদের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি জানান, তাঁর এক ভাই ও বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সব সময় তাঁর (খাজা আহমেদ) সঙ্গে থাকে। দুজনই পরীক্ষা দিচ্ছে। খাজা আহমেদ বলেন, ‘আজ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আমার ভাই আমার মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। পরে শুনেছি মোটরসাইকেলটি স্কুল থেকে ও (বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী) নিয়ে গেছে।’
বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা চলছে জানিয়ে খাজা আহমেদ আরও বলেন, ‘স্কুলের পেছনে ঈদের সময় যেসব পটকা ফোটানো হয়, ও রকম কিছু ফুটিয়েছে। এটা খুবই সামান্য বিষয় ছিল। পরে সেখানে পুলিশ গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। ছোট্ট একটা ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানো হচ্ছে। আমি কিছুই জানি না। আমি আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আমাকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে ঘটনাটি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: প্রথম আলো