|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০০ এএম
১৫৫ পঠিত
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

গ্যাসের দাম বাড়লে কয়েকটি পরিচিত কারণের কথা শোনা যায়—আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, ডলারের সংকট, পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ অথবা সরবরাহের জটিলতা। এসব কারণের সঙ্গে তর্ক করা কঠিন। কারণ, এগুলোর বেশির ভাগই আমাদের চোখের আড়ালে ঘটে, আর চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তরও আসে বেশ আড়াল থেকেই।

আমার ধারণা, গ্যাসের দাম বাড়ার পেছনে অন্য কারণ আছে। যে কারণগুলো এখনো অর্থনীতিবিদদের গবেষণায় উঠে আসেনি। গভীর চিন্তাভাবনা করে গ্যাসের দাম বাড়ার পাঁচটি অব্যর্থ কারণ খুঁজে পেয়েছি।

আর এ কারণগুলো এতই গুরুত্বপূর্ণ যে এখনই প্রকাশ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই একে একে তুলে ধরছি গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু।

গ্যাসের দাম বাড়ার প্রথম হেতু: রান্নার বইয়ের ষড়যন্ত্র

গ্যাসের দাম বাড়ার পেছনে দায়ী রান্নার বই! আজকাল রান্নার বইতে নতুন নতুন রেসিপি বের হচ্ছে। একেক বইয়ে একেক রকম রান্না। একেক পদের জন্য একেক রকম আয়োজন। ফলে রান্নাঘরে গ্যাসের ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। গ্যাসের ডিমান্ডের ওপর চাপ বাড়ছে। সিলিন্ডার কোম্পানি গ্যাস সাপ্লাই দিয়ে কুলাতে পারছে না। পণ্যের চাহিদা বাড়লে এবং সরবরাহ কমে গেলে সিন্ডিকেটের ভাষায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।

গ্যাসের দাম বাড়েনি, মানুষ এখনো পুরোনো দামে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে! সমস্যাটি মানুষের মানসিকতায়। মানুষ এখনো মনে করে রান্নার গ্যাস একটি সাধারণ প্রয়োজনীয় পণ্য। অথচ গ্যাস ইতিমধ্যে বিলাসপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গেলে শুধু টাকা দিলেই হবে না। সঙ্গে জমা দিতে হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়কর রিটার্ন এবং পারিবারিক সম্পদের বিবরণী।

দ্বিতীয় হেতু: সিলিন্ডারের আত্মসম্মানের সংকট

গ্যাস সিলিন্ডারের গায়ে বড় করে লেখা থাকে ১২ কেজি। এ লেখায় গ্যাস সিলিন্ডারের মন খারাপ হয়েছে। বেশি খারাপ। গ্যাস সিলিন্ডারের প্রশ্ন, মানুষ কি তাকে শুধু ওজন দিয়েই বিচার করবে? তার সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য কিংবা সামাজিক অবস্থানের কোনো মূল্য নেই? এত দিন ধরে সে মানুষের রান্নাঘরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে, অথচ তার পরিচয় কেবল ১২ কেজি! বিষয়টি নিয়ে সিলিন্ডার মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিলিন্ডার ঘোষণা দিয়েছে, ওজনের ভিত্তিতে আর তার দাম নির্ধারণ করা যাবে না। এখন থেকে দাম নির্ধারণ করতে হবে ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক মর্যাদা দিয়ে। আর তাতেই গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।

তৃতীয় হেতু: সিলিন্ডারের ভেতরে জায়গার সংকট

আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারে ১২ কেজি গ্যাস থাকত। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। সিলিন্ডারের ভেতরে গ্যাসের পাশাপাশি ঢুকে পড়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয়, ডলারের সংকট এবং ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাখার পর সিলিন্ডারে গ্যাসের জন্য জায়গা খুব অল্প অবশিষ্ট থাকে! ফলে সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ আগের থেকে কমে গেছে। গ্যাসের দাম আগের মতোই আছে। শুধু আগের দামে কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সাংবাদিকেরা এটাকেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

এবার বাড়বে পাইপলাইনের গ্যাসের দাম। তার পেছনেও আছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হেতু!

চতুর্থ হেতু: অটোরিকশা টেসলার জটিল কারসাজি

টেসলা বিশাল এক কৌশল হাতে নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য, গ্যাসচালিত গাড়ির মালিকদের এমনভাবে বিপদে ফেলা, যাতে তারা বিরক্ত হয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন। তখন তাদের বাধ্য হয়ে টেসলায় চড়তে হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। গ্যাসের দাম যত বাড়বে, গ্যাসচালিত গাড়ির মালিকদের দুর্ভোগও তত বাড়বে। আর সেই সুযোগে টেসলার যাত্রীসংখ্যা বাড়বে। অর্থাৎ, গ্যাসের দাম বাড়ানো আসলে টেসলায় চড়ানোর এক অভিনব প্রচেষ্টা!

পঞ্চম হেতু: পুতুলের পাইপলাইনে পুতুল আটকে যাওয়া

রাস্তায় খেলার সময় এক শিশুর হাত থেকে কাপড় দিয়ে বানানো তার পুতুল কুকুর গ্যাসের পাইপলাইনে পড়ে গেছে। পুতুল উদ্ধারে কেউ রাজি হচ্ছে না। তারা এই কাজের জন্য অবিশ্বাস্য রকমের বেশি মজুরি দাবি করছে। ফলে শিশুর পুতুল উদ্ধারের ব্যর্থ অভিযান শেষ পর্যন্ত দেশে তীব্র জ্বালানিসংকট সৃষ্টি করবে।

উপসংহার: আদতে গ্যাসের দাম বাড়েনি!

গ্যাসের দাম বাড়েনি, মানুষ এখনো পুরোনো দামে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে! সমস্যাটি মানুষের মানসিকতায়। মানুষ এখনো মনে করে রান্নার গ্যাস একটি সাধারণ প্রয়োজনীয় পণ্য। অথচ গ্যাস ইতিমধ্যে বিলাসপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গেলে শুধু টাকা দিলেই হবে না। সঙ্গে জমা দিতে হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়কর রিটার্ন এবং পারিবারিক সম্পদের বিবরণী।

প্রয়োজনে সিলিন্ডার কেনার আগে ক্রেতার আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সাক্ষাৎকারও নেওয়া হতে পারে। তখন আর প্রশ্ন থাকবে না, ‘একটা সিলিন্ডারের দাম কত?’ প্রশ্ন হবে, ‘সিলিন্ডার কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য আপনার আছে তো?’

সূত্র: প্রথম আলো