|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কেপটাউন টেস্টের সেই বল টেম্পারিং নিয়ে উসমান খাজা বিস্ফোরক মন্তব্য

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
৪৪৬ পঠিত
কেপটাউন টেস্টের সেই বল টেম্পারিং নিয়ে উসমান খাজা বিস্ফোরক মন্তব্য
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কেপটাউন টেস্টে আলোচিত সেই বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার উসমান খাজা। তার দাবি, স্যান্ডপেপার ব্যবহারের বিষয়ে দলের প্রতিটি সদস্যই অবহিত ছিলেন। কেবল কেপটাউন নয়, তার আগের পোর্ট এলিজাবেথ (গেবেখা) টেস্টেও নাকি স্যান্ডপেপার ব্যবহার করা হয়েছিল। খাজার...

কেপটাউন টেস্টে আলোচিত সেই বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার উসমান খাজা। তার দাবি, স্যান্ডপেপার ব্যবহারের বিষয়ে দলের প্রতিটি সদস্যই অবহিত ছিলেন। কেবল কেপটাউন নয়, তার আগের পোর্ট এলিজাবেথ (গেবেখা) টেস্টেও নাকি স্যান্ডপেপার ব্যবহার করা হয়েছিল।

খাজার এই বিস্ফোরক দাবি ২০২১ সালে অজি চার বোলারের যৌথ বিবৃতিকে পুরোপুরি বিপরীতমুখী করে তোলে। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড এবং নাথান লায়ন সেই বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, বল বিকৃতির এই পরিকল্পনা বা স্যান্ডপেপার ব্যবহারের বিষয়ে তারা বিন্দুমাত্র অবহিত ছিলেন না।

অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমরা সবাই এটা জানতাম। শুধু ব্যাটার, বোলার কিংবা সাপোর্ট স্টাফরা নয়, টিমের সবাই জানতাম।

২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ক্যামেরন ব্যানক্রফটের পকেটে স্যান্ডপেপার ধরা পড়ার পর তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ স্বীকার করেছিলেন যে দলের ‘লিডারশিপ গ্রুপ’ বল বিকৃতির এই পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনার পর স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে ১২ মাসের জন্য এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি স্মিথকে অধিনায়কত্ব থেকে বাড়তি ১২ মাস দূরে রাখা হয়। এছাড়া ওয়ার্নারের ওপর আজীবন অধিনায়কত্বের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল যা ২০২৪ সালে প্রত্যাহার করা হয়। 

খাজা জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ড্রেসিংরুমে কথা বলেছিলেন যেন কেবল স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে বলির পাঁঠা না বানিয়ে পুরো দল এই দায়ভার স্বীকার করে নেয়। একটি আদর্শ বিশ্বে আমি হয়তো এসব বলতে চাইতাম না। 

খাজা বলেন, সত্য উন্মোচনকারী ব্যক্তি হিসেবে আমি সামনে আসতে চাইনি। সমস্যা হলো, আমি সত্যি ভেবেছিলাম আট বছর পর এতদিনে আসল সত্যটা এমনিতেই সামনে চলে আসবে। ভেবেছিলাম ডেভি (ওয়ার্নার) হয়তো এটা ফাঁস করবে বা অন্য কেউ এটা নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু জল যত গড়িয়েছে, আমি শুরু থেকেই চেয়েছিলাম দল হিসেবে এই দায় সম্মিলিতভাবে নেওয়া হোক।

তিনি আরও যোগ করেন, ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমেও আমি তাদের বলেছিলাম, চলুন দল হিসেবে এই দায় নেওয়া যাক। কারণ কাজটা আমরা দল হিসেবেই করেছি এবং সবাই জানতাম কী ঘটছে। কিন্তু ঘটনা সেভাবে এগোয়নি, আর সেই তিনজনকেই ফাঁসিয়ে দেওয়া হলো। 

অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক ব্যাটার মনে করেন, স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে বছরের পর বছর এই কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হয়েছে। তাদের সুবিচারের স্বার্থেই এতদিন পর তার মুখ খোলা। 

তিনি বলেন, জীবন শুধু ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একদিক থেকে ওই তিনজন সুবিচার পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কেউ তাদের সেই জায়গাটা দেবে বলে মনে হচ্ছিল না। ওরা তিনজনও নিজে থেকে প্রথম মুখ খুলতে চাইছিল না, কারণ সেটা করলে কথা-কাটাকাটি বা পাল্টা যুক্তির মুখোমুখি হতে হতো। তাই অন্য কারও মুখ খোলার প্রয়োজন ছিল।

সূত্র: কালবেলা