|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ইসরায়েলি কর্মকর্তার ভুলে নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
২৪৫ পঠিত
ইসরায়েলি কর্মকর্তার ভুলে নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান। তবে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে পরিকল্পনার কথা জেনে যায়।...
ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান। তবে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে পরিকল্পনার কথা জেনে যায়। পরে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে অভিযানটি আটকে দেওয়া হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির পক্ষে কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিতও করা যায়নি। চ্যানেল ১২-এর দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি অংশ এ অভিযানের পক্ষে ছিলেন না। তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন পদক্ষেপে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে আপত্তি সত্ত্বেও অভিযানটির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পারে। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন অভিযানটি ঠেকিয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপের বিধিনিষেধ মেনে প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে চ্যানেলটি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেছিলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে হামলার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না।’ নতুন প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হলো, যখন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামিরের মতবিরোধ নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গত ২৫ অক্টোবর চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর নির্দেশিত একটি সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তার সঙ্গে সেনাপ্রধান জামিরের নজিরবিহীন বিরোধ তৈরি হয়েছে। ওই পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে এবং নির্বাচনের আয়োজন ব্যাহত হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে চ্যানেলটি জানায়, জামির ওই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা এবং অভিযানের আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে এক সামরিক সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন একটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছিল। এমন সংবেদনশীল সময়ে ভুল হিসাব বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে রাজনৈতিক স্বার্থে ইরান ইস্যু ব্যবহারের চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ ছিল বলে নাম প্রকাশ না করা কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল। তবে ২৫ অক্টোবর রাতে চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু প্রতিবেদনটিকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। জামিরের সঙ্গে কোনো বিরোধ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এর পরদিন, ২৬ অক্টোবর চ্যানেল ১২ ও ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের চাওয়া সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন শুধু সেনাপ্রধান জামির। আইডিএফের আশঙ্কা ছিল, এতে ইরানের সঙ্গে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং নির্বাচন ভেস্তে যেতে পারে। চ্যানেল ১২-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর জন্য ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে চান। নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এ কারণে আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইসরায়েলকে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ট্রাম্প বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের প্রতি বার্তা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে পরাজিত করেছি। ইরানের সঙ্গে আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। ছয়-সাত মাসে আমাদের কোনো সেনা নিহত হয়নি।’ সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

সূত্র: কালবেলা