|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ময়মনসিংহ শহরে ভবনের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াল, বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:০০ এএম
১৭৯ পঠিত
ময়মনসিংহ শহরে ভবনের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াল, বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
অনেক ভবন নির্মাণের সময় নিয়ম অনুযায়ী চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। কোনো কোনো ভবন তৈরি করা হয়েছে সড়ক ঘেঁষে।

অনেক ভবন নির্মাণের সময় নিয়ম অনুযায়ী চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। কোনো কোনো ভবন তৈরি করা হয়েছে সড়ক ঘেঁষে।

ময়মনসিংহ শহরে একের পর এক গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। বাড়ছে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা। ফলে বিভাগীয় এই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে যানজট। পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ পাড়ি দিতেও কখনো কখনো সময় লাগছে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নাগরিক ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিও।

১৭৮৭ সালে ময়মনসিংহ শহরের গোড়াপত্তন হয়। ১৮৬৯ সালে এটি পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে বিভাগীয় শহর এবং ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পায় ময়মনসিংহ। গত ১৪ অক্টোবর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার আট বছর পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই শহরে নগরায়ণের গতি বাড়লেও বাড়েনি পরিকল্পিত অবকাঠামো।

শহরের গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া মোড়, নতুনবাজার ও পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় যানজটের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় সরু সড়কে যানবাহনের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। বহুতল ভবন ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সড়কগুলোর প্রশস্ততা আগের মতোই রয়ে গেছে। এতে ক্রমেই ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে শহর।

২০২৫ সালের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত এক থেকে সাততলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৯৯৫টি। আটতলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৭৯টি। সব মিলিয়ে বর্তমানে শহরে এক থেকে সাততলা পর্যন্ত ভবন আছে ৫০ হাজার ৫৬৫টি এবং ৮ থেকে ২২তলা পর্যন্ত ভবন ৪০২টি।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর–পরিকল্পনাবিদ মানস কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সীমিত জনবল দিয়েই তদারকি করছি। কিন্তু এখানকার মানুষের সমস্যা হলো জোর করেও কাউকে নিয়ম মানানো যায় না।’

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শহরে এক থেকে সাততলা পর্যন্ত ভবন ছিল ৪৪ হাজার ৫৭১টি। সাততলার বেশি ভবন ছিল ২৭০টি। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত এক থেকে সাততলা পর্যন্ত নতুন ভবন হয়েছে ৪ হাজার ৯৩৯টি। ৮তলা থেকে সর্বোচ্চ ২২তলা পর্যন্ত ভবন হয়েছে আরও ৫৩টি।

২০২৫ সালের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত এক থেকে সাততলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৯৯৫টি। আটতলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৭৯টি। সব মিলিয়ে বর্তমানে শহরে এক থেকে সাততলা পর্যন্ত ভবন আছে ৫০ হাজার ৫৬৫টি এবং ৮ থেকে ২২তলা পর্যন্ত ভবন ৪০২টি।

ময়মনসিংহ নগরীতে ৫০ হাজারের বেশি ভবন হলেও সড়কের প্রশস্ততা বাড়েনি। নগরীর গাঙ্গিনারপাড় এলাকায়

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ ছয় মাসের কিছু বেশি। শহরের আর কোনো ক্ষতি না হয়, সে চেষ্টা করছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘একটি বহুতল ভবন যদি অন্যায়ভাবে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি নির্মাণের সময় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এখন উচ্ছেদ অভিযান চালানো বা ভবনটি ভেঙে ফেলা অমানবিক হবে।’ তবে নতুন ভবনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড পুরোপুরি অনুসরণের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

শহরের কিছু সড়ক সরু হওয়ায় যানজট তৈরি হচ্ছে জানিয়ে প্রশাসক আরও বলেন, বিদ্যমান সড়কগুলো প্রশস্ত করা সম্ভব না হওয়ায় নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শহরের ওপর চাপ কমাতে নগরায়ণ বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। শহরের বর্ধিত এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে মানুষ কম খরচে বাড়ি নির্মাণ করতে পারে এবং সবাইকে শহরমুখী হতে না হয়।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে চলতি বছরের ১৮ জুন যাত্রা শুরু করেছে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। নগরে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব এখন এ কর্তৃপক্ষের। নগরীকে পরিকল্পনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রধান শহর হিসেবে সড়কের প্রশস্ততা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। তারপরও বিদ্যমান সড়কের সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। বিভাগীয় শহর হওয়ার পর ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, সড়ক বাড়াতে গেলে অনেক অবকাঠামো ভাঙতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যদি সরকার কোনো পরিকল্পনা নেয়, সে ক্ষেত্রে সড়ক প্রশস্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

সূত্র: প্রথম আলো