|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর ফেলে দেওয়া হয় রেললাইনে, তরুণের মৃত্যুদণ্ড

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
২২২ পঠিত
কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর ফেলে দেওয়া হয় রেললাইনে, তরুণের মৃত্যুদণ্ড
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী এই দণ্ডাদেশ দেন।

পঞ্চগড়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে রেললাইনে ফেলে দেওয়ার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামের এক তরুণের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছেন আদালত।

আজ সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী এই দণ্ডাদেশ দেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খলিলুর রহমান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত রেলস্টেশনের পাশে মালিগাঁও রেলঘুমটি এলাকায় রেলপথের ওপর থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে লাশটি ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার নিখোঁজ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বলে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।

এদিকে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ সকালে আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত রেলগেট–সংলগ্ন হাজী শাহার আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চুরি হওয়া একটি ইজিবাইকসহ চুরির অভিযোগে রিফাত বিন সাজ্জাদ নামে এক তরুণকে আটোয়ারী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁর স্মার্টফোনে কিছু নগ্ন ছবি ও আপত্তিকর ভিডিও দেখতে পায় পুলিশ। এসব বিষয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত একপর্যায়ে জানান, ১৪ জানুয়ারি রেললাইনের ওপর যে কিশোরীর লাশ গিয়েছিল তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছিলেন তিনি। পরে পুলিশ বাদী হয়ে রিফাত বিন সাজ্জাদের নামে আটোয়ারী থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করে। এরপর ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন রিফাত বিন সাজ্জাদ।

ঘটনার বিবরণে রিফাত জানান, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড়ের দিকে আসছিলেন রিফাত। এ সময় ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনের ভেতর অজ্ঞাতনামা কিশোরীকে দেখতে পেয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন রিফাত। পরে মেয়েটিকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে রাত ৯টার দিকে পঞ্চগড়ের কিসমত রেলস্টেশনে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেন থেকে নামেন রিফাত। পরে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে একটি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মেয়েটিকে হত্যা করেন রিফাত। পরে ভোরে মেয়েটির লাশ টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর রেখে চলে যান তিনি। পরে রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পরে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় লাশটি।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট রিফাত বিন সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক মামলার রায় ঘোষণা করলেন।

সূত্র: প্রথম আলো