|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

শ্রমিক বিক্ষোভে ‘স্থবির’ সাভার-আশুলিয়ার শিল্পচাকা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
৩১৯ পঠিত
শ্রমিক বিক্ষোভে ‘স্থবির’ সাভার-আশুলিয়ার শিল্পচাকা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা চার দিনের শ্রমিক বিক্ষোভে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় একের পর এক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করছে কর্তৃপক্ষ।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চতুর্থ দিনের আন্দোলনে আশ...
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা চার দিনের শ্রমিক বিক্ষোভে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় একের পর এক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করছে কর্তৃপক্ষ।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চতুর্থ দিনের আন্দোলনে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দুপুরের পর সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এতে আশুলিয়ার পাশাপাশি সাভারের শিল্পাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে শ্রমিক অসন্তোষ। টানা আন্দোলনে উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও বিপর্যস্ত। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নির্ধারিত মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলাকে সমর্থন করছেন না অনেক শ্রমিক। তাঁদের অভিযোগ, যৌক্তিক দাবিতে চলা আন্দোলনে বহিরাগতরা ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। একপর্যায়ে কয়েক হাজার শ্রমিক বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কের নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জামগড়া ও ইউনিক এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ চালু থাকা কারখানার শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকটি কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে আশপাশের অলিগলিতে অবস্থান নেন। পরে আবারও সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে। গত চার দিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ার বহু তৈরি পোশাক কারখানা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার এক দিনেই ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার খবর পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আরও ১০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। পরে ছুটি ঘোষণা করা কারখানার সংখ্যা অন্তত ৫৫টিতে পৌঁছায়। আন্দোলনের প্রভাবে অনন্ত গার্মেন্টস, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নিট এশিয়া, হা-মীম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। আবার কোথাও শ্রমিকদের একটি অংশ কাজ বন্ধ করে আন্দোলনে যোগ দেন। ফলে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ‘আমরা শুধু ন্যায্য মজুরি চাই’ নিউ এইজ গ্রুপের শ্রমিক রোকসানা বলেন, ‘আমরা কোনো আন্দোলন চাই না। পুলিশের ওপর যারা হামলা করছে, তারা আমাদের কেউ না। আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য মজুরি চাই।’ পলমল গ্রুপের শ্রমিক সুমন বলেন, ‘আমরা কোনো ভাঙচুর করিনি। আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে আমাদের পারিশ্রমিক চাই। এই আন্দোলন সমর্থন করলেও কোনো ভাঙচুর আমাদের কাজ না। কে বা কারা এগুলো করছে, আমরা জানি না।’ শারমিন গ্রুপের শ্রমিক রোকসানা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে খাই, পেটের দায়ে চাকরি করি। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, এই বেতনে চলতে পারছি না। এক বোতল গ্যাস কিনতে লাগে ২ হাজার ৪০০ টাকা। আমাদের বেতন বাড়ানো হোক।’ এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের পর সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে আশুলিয়ার পাশাপাশি সাভারের শিল্পাঞ্চলেও আন্দোলনের প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে। শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী শ্রমিক, সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরপরও আন্দোলনের নামে যারা শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে; তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারখানা, শ্রমিক ও মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। ডিআইজি আরও বলেন, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি মহল শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ভাঙচুর ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে তা ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। এরই মধ্যে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স