|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সুনামগঞ্জে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জেলা বিএনপির

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
২১৭ পঠিত
সুনামগঞ্জে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জেলা বিএনপির
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতু ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। দলটির দাবি, প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৮৭ কোটি টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করা হলেও নির...

সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতু ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি। দলটির দাবি, প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৮৭ কোটি টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করা হলেও নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতির চিত্র সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, নিম্নমানের কাজ বাতিল এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) সুনামগঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়।

লিখিত বক্তব্যে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় লালপুর-সালামপুর সেতুর দুটি অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের জন্য ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন, নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপির অভিযোগ, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি গার্ডওয়াল হেলে পড়েছে। ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, মাটি যথাযথভাবে কমপ্যাকশন না করা এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের মতো অনিয়ম করা হয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি দলটির।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিলও উত্তোলন করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় ও কাজের পরিমাণ যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

এদিকে, প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলামের করা অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ বাতিল, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্সের অন্যান্য প্রকল্পের কাজও তদন্ত করা।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, রেজাউল করিম, আতম মিসবাহ, আকবর আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স