|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

৪০০ ছাড়াল চীনের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের সংখ্যা, উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
৩০৯ পঠিত
৪০০ ছাড়াল চীনের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের সংখ্যা, উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চীনের নৌবাহিনীর বহরে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি চীনা নৌযান সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু করে জাপান ও তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তাদের তৎপরতা। চীনের নৌবাহিনীর এই দ্রুত সম্প্রসার...

চীনের নৌবাহিনীর বহরে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি চীনা নৌযান সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু করে জাপান ও তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তাদের তৎপরতা। চীনের নৌবাহিনীর এই দ্রুত সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পর্যালোচনা করা মার্কিন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের নৌবাহিনীতে বর্তমানে ৪০০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রয়েছে। জাহাজের সংখ্যার হিসাবে এটি মার্কিন নৌবহরের চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি। বর্তমানে চীনের তিনটি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে। আরও একটি নির্মাণাধীন। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন রণতরিটি পারমাণবিক শক্তিচালিত হতে পারে। আধুনিক ইতিহাসে শান্তিকালীন সময়ে কোনো দেশের নৌবাহিনীর এত বড় সম্প্রসারণের ঘটনা বিরল।

চীনের নৌযানগুলো এখন দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ানের আশপাশ, ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চল এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি নিয়মিত চলাচল করছে। এর বাইরে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরেও তাদের উপস্থিতি বেড়েছে। এডেন উপসাগরেও নিয়মিত নৌবহর পাঠাচ্ছে বেইজিং।

চীনা নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হিসাবে, সবসময়ই তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় চীনের প্রায় ছয়টি নৌযান অবস্থান করে। সামরিক মহড়ার সময় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা নৌযানের উপস্থিতি এর প্রায় তিন গুণ। এ অঞ্চলে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে।

বেইজিংয়ের লক্ষ্য শুধু নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো নয়। উপকূলীয় জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিতর্কিত ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দাবি শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে মার্কিন বাহিনীর হস্তক্ষেপ কঠিন করে তোলাও তাদের পরিকল্পনার অংশ।

সমুদ্রে চীনের উত্থানের পেছনে দেশটির বিশাল জাহাজ নির্মাণশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণে চীন শীর্ষস্থানীয়। প্রতিবছর বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক জাহাজের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে তৈরি হয়। বিশাল কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে শুরু করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জাহাজ, সবই নির্মাণ করছে চীন। এখন একই শিল্প সক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বিশ্বাস, সমুদ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ একটি দেশের বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের তিনি চীনকে ‘সমুদ্রশক্তিতে পরিণত’ করার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, সমুদ্রপথ ব্যবহার করে এসব দেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার করেছে। চীনা নৌ-অভিযাত্রী ঝেং হের ১৫ শতকের সমুদ্রযাত্রার কথাও স্মরণ করেন তিনি। ঝেং হের নৌবহর হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আফ্রিকার পূর্ব উপকূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেখান থেকে পণ্য এমনকি জিরাফও নিয়ে ফিরেছিল।

পরবর্তী সময়ে চীন বিদেশে সম্প্রসারণের পথ থেকে সরে এসে বিচ্ছিন্নতার দিকে যায়। উনিশ শতকের আফিম যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেন শি। ওই যুদ্ধে পশ্চিমা বাহিনী সমুদ্রপথে চীনে হামলা চালিয়েছিল।

মোট নৌবহরের ওজন বা টনেজের হিসাবে চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে। অর্থাৎ গড়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আকারে বড়। তবে চীন দ্রুত বড় আকারের জাহাজ নির্মাণ করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পর্যালোচনা করা মার্কিন পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত চীন ৭১টি বড় যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন যুক্ত করেছে। এর মধ্যে শুধু গত বছরই যুক্ত হয়েছে ১৯টি।

সূত্র : দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স