|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

৯ টাকা কেজি আলু, তবু ক্রেতা নেই

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
২২৪ পঠিত
৯ টাকা কেজি আলু, তবু ক্রেতা নেই
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
হিমাগারে আলু, অথচ ক্রেতা নেই। পাইকারিতে কমতে কমতে কেজিপ্রতি দাম নেমেছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। কিন্তু শুধু হিমাগারের খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি। উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় পড়েছে ১৭ থেকে ২০ টাকারও বেশি। ফলে আলু বিক্রি করলেও কেজিপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান গুণতে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ল...

হিমাগারে আলু, অথচ ক্রেতা নেই। পাইকারিতে কমতে কমতে কেজিপ্রতি দাম নেমেছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। কিন্তু শুধু হিমাগারের খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি। উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় পড়েছে ১৭ থেকে ২০ টাকারও বেশি। ফলে আলু বিক্রি করলেও কেজিপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান মেনে বিক্রি করতে চাইলেও মিলছে না ক্রেতা। এ অবস্থায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার একমাত্র ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ নামের হিমাগারে বিপুল আলু অবিক্রীত পড়ে থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক পরীক্ষিত চন্দ্র রায় বলেন, লাভের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন কেজি ৮-৯ টাকায় বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খচর যোগ করে লোকসান আরও বাড়ছে।

মরনাই গ্রামের কৃষক বাবু রায় বলেন, কৃষক আলু উৎপাদন করতে ঋণ করেছেন, হিমাগারে আলু রাখতেও খরচ হয়েছে। এখন কম দামে বিক্রি করলে ঋণের টাকা পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইন্দ্রপুর জসাইহাট এলাকার কৃষক আজিজার রহমান বলেন, আবাদের ১৬ বস্তা আলু রেখেছিলেন হিমাগারে। বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় ৯ বস্তা আলু বীজ আর বাড়ির খাবারের জন্য রেখে ৯ বস্তা ৮ টাকা কেজিদরে বিক্রি করে দিয়েছেন।

আলু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, আলুর দাম দিন দিন কমছে। ফলে আলু কিনলেই অনিবার্য লোকসান। তাই হাত গুঁটিয়ে বসে রয়েছেন। ঢাকা ও অন্যান্য স্থান থেকেও আলু কেনার চাহিদা আসছে না।

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের প্রধান হিসাব রক্ষক মো. আবুল হাসনাত জানান, চলতি বছর তাদের হিমাগারে এক লাখ ৭৬ হাজার বস্তা (৫৫ থেকে ৬০ কেজি ওজনের বস্তা) আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার বস্তা আলু বিক্রি হয়েছে। এখনও ৬০ হাজার বস্তা আলু অবিক্রীত রয়েছে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন। একই সময়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যায়। বর্তমানে হিমাগারে থাকা আলুর সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে বাজারদর বাড়তে পারে। এতে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স