|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ইরান যুদ্ধে মার্কিন তেল কোম্পানির মুনাফা ১৩ হাজার কোটি ডলার, চাপে ভোক্তারা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
১৫৫ পঠিত
ইরান যুদ্ধে মার্কিন তেল কোম্পানির মুনাফা ১৩ হাজার কোটি ডলার, চাপে ভোক্তারা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের ছয় মাসে ১৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি মুনাফা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক সুফল কারা পাচ্ছে আর এর মূল্য কাদের দিতে হচ্ছ...

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের ছয় মাসে ১৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি মুনাফা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক সুফল কারা পাচ্ছে আর এর মূল্য কাদের দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৫১টি বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি মুনাফা করেছে। অথচ ২০২৫ সালের একই সময়ে তাদের সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও কম। সে সময় ইরান যুদ্ধ শুরু না হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও তুলনামূলক কম ছিল।

অন্যদিকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের বিশ্লেষণ বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ পেট্রল ও ডিজেল কিনতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। পরিবারপ্রতি এই বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৫০ ডলারের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় মার্কিন কোম্পানিগুলো লাভবান হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। তুলনামূলক নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থা থাকায় মার্কিন কোম্পানিগুলো এ পরিস্থিতির সুবিধা নিতে পেরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় দুই তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরন ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে মুনাফার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ভালেরো এনার্জির তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা ছয় গুণের বেশি বেড়ে ৬৮৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ফিলিপস ৬৬-এর নিট আয় আগের বছরের ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৫৬২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল স্টাডিজের গবেষক নাসের আল-তামিমি বলেন, অপরিশোধিত তেলের উৎপাদকেরা বেশি দামের সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় শোধনাগারগুলোও বাড়তি মুনাফা করছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে। রাবোব্যাংকের জ্বালানি কৌশলবিদ ফ্লোরেন্স শ্মিটের মতে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আগামী বছরও জ্বালানির দাম বেশি থাকতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরবরাহ বিঘ্ন ও এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছর পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও উচ্চ জ্বালানির দাম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি মন্দার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। ফলে তেল কোম্পানিগুলোর বর্তমান মুনাফা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চাপ হয়ে উঠতে পারে।
  
সূত্র: আলজাজিরা

সূত্র: কালবেলা