|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

দুই বছর পর জাম্বুরি মাঠ খেলবে শিশুরা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
৪১৫ পঠিত
দুই বছর পর জাম্বুরি মাঠ খেলবে শিশুরা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিশুপার্কের পাশের আবদ্ধ জায়গাটিকে শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তৎকালীন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রায় দুই বছর পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে।  নগরের আগ্রাবাদে ৯২ দশমিক ৫ কাঠা জমিতে তৈরি জাম্বুরি খেলার মাঠের...

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিশুপার্কের পাশের আবদ্ধ জায়গাটিকে শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তৎকালীন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রায় দুই বছর পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে। 

নগরের আগ্রাবাদে ৯২ দশমিক ৫ কাঠা জমিতে তৈরি জাম্বুরি খেলার মাঠের উদ্বোধন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একটি করে মাঠ তৈরির উদ্যোগ এবং পর্যায়ক্রমে মাঠের সংখ্যা ৮২টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চসিক প্রশাসক।

শনিবার (৭ নভেম্বর) আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠ এবং নগরের কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাঠটির উদ্বোধন করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর আগ্রাবাদের কর্ণফুলী শিশুপার্ক পরিদর্শনে যান ডা. শাহাদাত হোসেন। তখন দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুত পার্কটি চালুর পাশাপাশি পাশের আবদ্ধ জায়গাটিকে শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। পরে সংস্কার ও আধুনিকায়নের পর ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নামে শিশুপার্কটি চালু হয়। এবার পাশের জায়গাটিও খেলার মাঠে রূপ পেল।

প্রায় ৯২ দশমিক ৫ কাঠা জমিতে মাঠটির উন্নয়নকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। মাঠে খেলাধুলার অবকাঠামোর পাশাপাশি গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, ওয়াশরুম ও হাঁটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ফ্লাডলাইট ও সীমানাপ্রাচীরের ব্যবস্থাও করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের জমির বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এখানে বহুতল ভবন কিংবা প্লট তৈরি করে বিপুল অর্থ আয় করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নগরবাসীর বিনোদন এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরির জন্য জায়গাটি মাঠ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১১টি মাঠ প্রস্তুত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও মাঠ তৈরি করে সংখ্যা ৮২টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

চসিক প্রশাসক বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ থেকে দূরে রাখতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কিংবা বক্তব্য যথেষ্ট নয়। আমরা মাদক চাই না, সন্ত্রাস চাই না, চাঁদাবাজি চাই না, কিশোর গ্যাং চাই না। শুধু মুখে এসবের বিরুদ্ধে কথা বললে হবে না। তরুণদের জন্য খেলাধুলার উপকরণ ও বিনোদনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের মাঠ দিতে হবে, খেলার সুযোগ দিতে হবে। তাহলেই তারা অপরাধের পথ ছেড়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে এগিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ও অনলাইননির্ভর জীবনযাপনের বাইরে এনে মাঠমুখী করতে চায় চসিক। নিয়মিত খেলাধুলা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঠ উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, হালিশহর এইচ ব্লক ও ফিরোজশাহসহ কয়েকটি এলাকায় মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদারবাড়ি বালির মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম, বাকলিয়া স্কুল মাঠ, পাহাড়তলী খেলার মাঠ, মহসিন কলেজ মাঠ, প্যারেড মাঠ, আমবাগান মাঠ ও পাহাড়তলী কলেজ মাঠের উন্নয়নকাজ চলছে। এসব মাঠ পর্যায়ক্রমে উদ্বোধন করা হবে।

প্রচলিত খেলার মাঠের পাশাপাশি ফুটসালসহ আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। এ-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় নগরের তরুণদের জন্য আরও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কথাও বলেন প্রশাসক।

তবে মাঠ তৈরি করেই দায়িত্ব শেষ করতে চায় না চসিক। এর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাঠটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে হবে। সেখানে যাতে মাদকাসক্ত কিংবা অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা আড্ডা জমাতে না পারে, সে বিষয়ে এলাকাবাসী, ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর রাখতে হবে। মাঠটি যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স