ফেসবুকে ‘জয় বাংলা’ পোস্টের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ
গণমাধ্যম ডেক্স
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ফেসবুকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও বিএনপিবিরোধী পোস্টের প্রতিবাদ করায় জলাবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীয়ত উল্লাহ লিমনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা লিমন অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক সিয়াম হোসেন ফকির ও তার বাবা আবুল হোসেন ফকির তার পা ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পর আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করে তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কামারকাঠি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শরীয়ত উল্লাহ লিমন। তিনি উপজেলার ৫ নম্বর জলাবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিমন জানান, প্রায় এক মাস আগে সিয়াম হোসেন ফকির তার ফেসবুক আইডি থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসংবলিত একটি পোস্টসহ বিএনপিবিরোধী একাধিক পোস্ট করেন। গত ১৫ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে সিয়ামকে একা পেয়ে ফেসবুকে ‘জয় বাংলা’ লেখার কারণ জানতে চাইলে তিনি গালিগালাজ করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও জানান, গত ১৭ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কামারকাঠি বাজারে যাওয়ার পথে সিয়াম হোসেন ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন তার পথরোধ করেন। এসময় আবুল হোসেনের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথার পেছনে জখম হয়। পরে সিয়াম হোসেনের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাম পায়ে আঘাত করলে হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন জানিয়ে লিমন বলেন, মামলা করার পর আসামিরা জামিনে বের হয়ে তাকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিয়াম হোসেন ফকিরের বাবা আবুল হোসেন বলেন, তার ছেলে ভুলবশত ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। লিমনকে জীবননাশের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় উল্টো তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মেহেদী সরোয়ার বলেন, ফেসবুকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান পোস্ট করার বিষয়ে জানতে চাওয়ায় ছাত্রদল নেতা শরীয়ত উল্লাহ লিমনকে সিয়াম ও তার বাবা মারধর করেছেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। আসামিরা জামিনে বের হয়ে পুনরায় হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি শুনেছেন। ফেসবুকে পোস্ট করার প্রতিবাদ করায় এ ধরনের হামলা করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ, নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবির খান, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম মোল্লা, কলেজের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাইয়ুম, জলাবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. আবীর, মো. ইয়াদুল ইসলামসহ ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স