যেসব কারণে ১ নভেম্বর সেন্টমার্টিন যাওয়া হচ্ছে না পর্যটকদের
গণমাধ্যম ডেক্স
পর্যটকদের জন্য ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ উন্মুক্ত হলেও নির্ধারিত দিনে শুরু হচ্ছে না পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র ও দাপ্তরিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আরও তিন থেকে চার দিন পিছিয়ে যেতে পারে জাহাজ চলাচল শুরুর সময়। ফলে দ্বীপ ভ্রমণের অপেক্ষায় থাকা পর্যটকদের আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত শর্তগুলো পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পরই জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের জারি করা শর্তের কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের নিবন্ধনের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি দাপ্তরিক অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিনটি জাহাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। আরও সাতটি জাহাজের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
বাহাদুর জানান, এ বছর থেকে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচি এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে।
এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এর আগে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, এমবি কর্ণফুলী, বার আউলিয়া ও এমবি টেকনাফ নামের তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটক পরিবহনের ছাড়পত্র পেয়েছে। জাহাজ তিনটির সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন যেতে আগ্রহী পর্যটকরা ইতোমধ্যে টিকিট বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করছেন। কিন্তু ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন সফটওয়্যার এখনো চালু না হওয়ায় টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এসব জটিলতা কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্ট ও সুগন্ধা পয়েন্টের দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার, ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স