|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ময়লা-আবর্জনা মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে, বিপাকে শিশু শিক্ষার্থীরা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
৩৯৮ পঠিত
ময়লা-আবর্জনা মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে, বিপাকে শিশু শিক্ষার্থীরা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ থেকে অনেক আগেই পুকুরে জমা বৃষ্টির পানি নেমে গেছে। তবে পানি নেমে গেলেও ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা এখনো পড়ে আছে পথজুড়ে ও পথের আশপাশে।  সেসব ময়লা-আবর্জনা মাড়িয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিশু...
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ থেকে অনেক আগেই পুকুরে জমা বৃষ্টির পানি নেমে গেছে। তবে পানি নেমে গেলেও ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা এখনো পড়ে আছে পথজুড়ে ও পথের আশপাশে।  সেসব ময়লা-আবর্জনা মাড়িয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। অথচ দীর্ঘদিনেও এসব ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। ফলে এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের, অন্যদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়সংলগ্ন ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পানি উপচে পড়ে। এতে ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ পানিতে তলিয়ে যায়। সে সময় পুকুরে ফেলা আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা এবং পুকুরের পাড় ঘেঁষে থাকা ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের ময়লা-আবর্জনাও পানিতে ভেসে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পানি নেমে গেলেও সেসব ময়লা-আবর্জনা পথের ওপর ও পথের পাশে জমা হয়। কিন্তু সেগুলো পরিষ্কার না করায় এখনো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।  বিদ্যালয়টি উপজেলা সদরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন অনেক শিশু সেখানে পড়তে যায়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় ময়লা-আবর্জনার ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে তাদের পোশাক ও জুতা নোংরা হওয়ার পাশাপাশি জীবাণুর সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য তা আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একাধিক অভিভাবক জানান, শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অথচ মডেল এই বিদ্যালয়ে ঢোকার পথেই যদি ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে, তাহলে তা শিশুদের জন্য অস্বস্তিকর ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ করে প্রবেশপথটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।  তাজুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, রাস্তার ওপর পড়ে থাকা ময়লা মাড়িয়েই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে ঢুকতে হচ্ছে। কেউ কেউ এ পথে না ঢুকে কিছুটা ঘুরে বণিক বাড়ির ওপর দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে ময়লা মাড়িয়েই যাচ্ছে। এসব ময়লায় জীবাণু থাকলে শিশুরা অসুস্থও হতে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্কুলপথটি দ্রুত পরিষ্কার করা উচিত।  কামাল হোসেন নামে আরেক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের মতো জায়গায় প্রবেশপথে এ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাও দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীই অনেকটা পথ ঘুরে একটি বাড়ির পথ ধরে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ময়লা পরিষ্কার করে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে পারে, সে জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন পুকুরটি ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। ভারী বৃষ্টি হলেই পুকুরটি পানিতে পূর্ণ হয়ে উপচে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার বিষয়টিও তাকে জানানো হবে।  ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। পুকুরের পানি উপচে পড়ে বারবার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার এ সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগির সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।  তিনি আরও বলেন, প্রথমে জলাবদ্ধতা রোধে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে বারবার ময়লা জমার সমস্যাও দূর হবে।

সূত্র: কালবেলা