|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে প্রেসিডেন্ট হারজগ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
৩৩৮ পঠিত
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে প্রেসিডেন্ট হারজগ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এখন কাকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেবেন, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট—...

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এখন কাকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেবেন, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট—দুজনই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাননি।

রোববার একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্টের। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। তবে আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সদস্যরাও রয়েছেন। এসব দলকে নিয়ে সরকার গঠনে আপত্তি রয়েছে আইজেনকটের।

সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া চারটি ইহুদি দল পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন ১৯টি। এই দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আসনের সমর্থন পাওয়া সম্ভব। তবে তিনি তাদের সরকারে নিতে রাজি নন।

আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের আসন ১১টি এবং ইউনাইটেড আরব লিস্টের আসন আটটি। ইউনাইটেড আরব লিস্ট আইজেনকটের সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী। জয়েন্ট লিস্ট সরকারে না গিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে তাদের সরকারে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আইজেনকট।

অন্যদিকে সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে বিরোধী কোনো দলের সমর্থন আদায় করতে হবে। নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের মধ্যে মেয়াদ ভাগ করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন তার কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।

আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর প্রধান দাবি নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান। বিনিময়ে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য বাড়িঘর ভাঙা ও উসকানি বন্ধ, অপরাধ দমনে পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অগ্রগতির নিশ্চয়তা চায় তারা।

প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তি সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। প্রথম ব্যক্তি ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিন দফা চেষ্টার পরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে পার্লামেন্ট ভেঙে যাবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।

ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক নেহরু জামহুর আল জাজিরাকে বলেছেন, সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থাই সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, নতুন নির্বাচন হলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করা এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটার উপস্থিতি কমানোর সুযোগ পেতে পারেন নেতানিয়াহু।

সূত্র: আল জাজিরা

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স